প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিলেট: দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলার ইতি টেনে জামায়াতে ইসলামীর সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন সিলেটের অন্যতম পরিচিত মুখ সালাহ উদ্দিন মিরাজ। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সাথে মতানৈক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সালাহ উদ্দিন মিরাজ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে:
২০০৫ সাল: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ।
২০১৩-২০১৭: রুকন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং ২৬নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি।
২০১৭-২০২২: ২৫নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
২০২৩-২০২৪: ২৫নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমা থানা জামায়াতের নির্বাচিত শুরা সদস্য ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি।
সালাহ উদ্দিন মিরাজ তাঁর ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকালে কিছু ‘অযাচিত সিদ্ধান্ত’ তাঁর স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে গিয়ে ভবিষ্যতে দ্বীনের সেবায় ভিন্নভাবে ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে চাই।" দীর্ঘদিনের পথচলায় কোনো ধরনের খেয়ানত করেননি দাবি করে তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস অত্যন্ত বিতর্কিত ও জটিল। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তানে জামায়াতের সক্রিয়তা থাকলেও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তারা পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়।
১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতও যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার ও সাংগঠনিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে বড় ধরনের কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৫ সালের বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের ডামাডোলে দলের ভেতরে নেতৃত্বের পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত অভিমান থেকে পদত্যাগের এই ঘটনাটি সিলেটের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সিলেট মহানগর জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, "সালাহ উদ্দিন মিরাজ একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তাঁর পদত্যাগপত্র আমরা পেয়েছি, তবে এটি গৃহীত হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।" অন্যদিকে, ফরিদপুরে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক দলেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদত্যাগের ঘটনা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সালের দীর্ঘ পরিক্রমায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শিক লড়াইয়ের চেয়ে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তি ইমেজের প্রভাব অনেক সময় বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সালাহ উদ্দিন মিরাজের এই প্রস্থান সেই সাংগঠনিক সংকটেরই একটি অংশ হতে পারে।
সূত্র: ১. সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর প্রেস উইং ও অফিসিয়াল যোগাযোগ।
২. সালাহ উদ্দিন মিরাজের ব্যক্তিগত ফেসবুক হ্যান্ডেল ও ডিজিটাল স্টেটমেন্ট।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির বিবর্তন ও রাজনৈতিক দলসমূহের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৪)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |